চৌদ্দটি কুকুর-বিড়াল পালন করেন তেমনই এক মায়ের সন্ধান - Latest Bangla News

চৌদ্দটি কুকুর-বিড়াল পালন করেন তেমনই এক মায়ের সন্ধান - Latest Bangla News

চৌদ্দটি কুকুর-বিড়াল পালন করেন তেমনই এক মায়ের সন্ধান


দেশে পাওয়া গেছে এক মমতাময়ী মায়ের সন্ধান। তবে সে লালন-পালন করে কোন মানুষকে নয়, কুকুর বিড়াল কে। একটা নয় দুটো নয় সর্বমোট চৌদ্দটা কুকুর বিড়াল লালন পালন করে সেই মহিলা। নাম তার সাহিদা বেগম। রাজধানীর উত্তরা এয়ারপোর্ট এলাকার রেলস্টেশনে সাহিদা বেগম ভিক্ষা করেন এবং রেল স্টেশনের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে সে তার পোষা প্রাণীদের সাথে দিন কাটান


এত অভাবে থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষের টাকায় খাবার তুলে দেন সন্তানের মত কুকুর বিড়ালের মুখে। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। একজন ভিখারির এমন মানবিকতা দেখে মুগ্ধ সমস্ত এলাকাবাসী। সারাদিন ভিক্ষা করে সেই ভিক্ষার টাকা দিয়ে আগে নিজে না খেয়ে তার পোষা কুকুর বিড়ালের মুখে খাবার তুলে দেন ভিখারি সাহিদা বেগম। পোষা কুকুর বিড়ালের প্রতি এত ভালোবাসা ও মমতা দেখে এলাকাবাসী সাহিদা বেগম কে ডাকে বিড়ালের মা। ছোট ছোট বিড়াল এবং কুকুরছানাকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনে সেটাকে সন্তানের মত আদর যত্ন করে বড় করেটাই হলো সাহিদা বেগমের কাজ। 

কাকলি, বনানী, আদরি, লালন, কালো শুনতে মানুষের নাম মনে হলেও এগুলো কিন্তু মানুষের নাম নয়। সাহিদা বেগমের রাখা এগুলো তার পোষা কুকুর বিড়ালের ছানার নাম। সারাদিন ভিক্ষা করার পর যখন তিনি বাসায় এসে এই নামগুলো বলে ডাক দেয় তখন ছুটে আসে তার পোষা কুকুর বিড়ালের ছানা। আজকাল আমাদের সমাজে কুকুর বিড়াল অনেকেই পালন করে। কেউ কেউ পালন করে সৌন্দর্যের জন্য। আবার কেউ কেউ পালন করে শখের বশে। আর কেউ কেউ পালন করে মানবিকতার দিক দিয়ে। তবে তাদের থেকে সাহিদা বেগমের কুকুর-বিড়াল পালনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। ভিক্ষা করে চৌদ্দটি কুকুর বিড়াল পালন করা মানুষ সমাজে নেই বললেই চলে। পোষা প্রাণীদের প্রতি কতটুকু ভালোবাসা থাকলে এমনটা করা যায়। আমাদের সমাজে অনেকেই আছে যারা মাছ খেয়ে মাছের কাটাটা এবং মাংস খেয়ে মাংসের হাড্ডি টা পর্যন্ত কুকুরকে দেয়না। 

সাহিদা বেগমের বক্তব্য:

কুকুর বিড়ালের প্রতি এমন ভালোবাসার কথা জিজ্ঞাসা করলে সাহিদা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসি। পেটের দায়ে ঢাকায় এসে ভিক্ষা করে দুই মেয়েকে বড় করে তাদেরকে বিয়ে দি। তারা এখন তাদের শ্বশুরবাড়ি থাকে। তারপর থেকে আমার একাকী জীবন। তাই আমি কুকুর বিড়াল লালন পালন করি। আর তারাই এখন আমার জীবনের একমাত্র সঙ্গী। সাহিদা বেগম আরো বলেন, রাস্তার পাশে যখন কোনো কুকুর বিড়াল পড়ে থাকে আহত অবস্থায় তখন আমি সেটাকে তুলে নিয়ে আসি। তারপর সেই প্রাণীকে আমি আস্তে আস্তে সুস্থ করে তুলি। সেদিন একটা কুকুর অসুস্থ হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। আমি সেটাকে তুলে এনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সুস্থ করে তুলছি এখন সেই কুকুরটি আগের তুলনায় অনেক সুস্থ এবং সে আমার কাছেই থাকে। তিনি আরো বলেন, মানুষের ভালোবাসা আমার দরকার নেই। আমার আল্লাহ ও রাসূলের ভালবাসা হলেই চলবে। 

আরো পড়ুন....

নিজের স্ত্রীকে মেরে রান্না ঘরে পুতে দেয় স্বামী?

দেয়াল ধসে মৃত্যু হলো এক স্কুল শিক্ষার্থীর?

প্রতিদিন রাতে ফ্রিতে অসহায় দরিদ্র মানুষদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করেন বেন্টু?

এলাকাবাসীদের বক্তব্য:

এলাকাবাসীরা বলেন, রাস্তার প্রাণী ভেবে কেউ এই পোষা কুকুর বিড়ালকে আহত করলে তেরে যায় সাহিদা বেগম। আমরা অনেকদিন যাবত তাকে দেখছি সে কুকুর-বিড়াল পালন করছে। তার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ সে নিজে ও ভালো করে চলতে পারছে না, তারপরেও বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে সে তার কুকুর বিড়ালের মুখে খাবার তুলে দেয়। এলাকাবাসীরা আরো বলেন, ভিক্ষা করে সেই টাকা দিয়ে চৌদ্দটা কুকুর বিড়াল পোষার মতো মানবিকতার কাজ আর কি হতে পারে। আমরাও তার দেখাদেখি এখন কুকুর বিড়াল পালন করি। সাহিদা বেগমকে যদি কেউ আর্থিক সহায়তা করতো অথবা তার যদি আর্থিক অবস্থা সচল থাকতো তাহলে সে আরও কুকুর বিড়াল পালন করতো বলে জানান, এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশীরা অনেকেই কুকুর-বিড়ালের জন্য খাবার কিনে দিয়ে সাহিদা বেগম কে সহযোগিতা করেন।

Previous Post Next Post

Contact Form