রাতে হাতির আক্রমণে ঘুম হারাম এলাকাবাসীদের - Latest Bangla News

রাতে হাতির আক্রমণে ঘুম হারাম এলাকাবাসীদের - Latest Bangla News

রাতে হাতির আক্রমণে ঘুম হারাম এলাকাবাসীদের


রাতে হাতির আক্রমণে ঘুম হারাম এলাকাবাসীদের;

শেরপুরে প্রতিদিনই খাবারের খোঁজে বন্য হাতি এবং অন্যান্য প্রাণী আক্রমণ করে। এটা নতুন কিছুই নয়। প্রতিবছরই ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে খাবারের খোঁজে বন্য হাতি সহ অন্যান্য বন্য প্রানীদের প্রবেশ করতে দেখা যায় সীমান্তবর্তী এলাকা শেরপুরে। এ যেন এক মহা বিপদ বন্যহাতির সাথে লড়াই করার মত ক্ষমতা নেই কারো। কৃষকের সমস্ত ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে বন্য হাতিরা। শুধু ফসলের জমিতেই নয় রাতের বেলায় আক্রমণ করছে এলাকার প্রতিটি ঘর বাড়িতে এবং ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে সকল ঘরবাড়ি।


হাতির সাথে শেরপুরের মানুষের যুদ্ধ নতুন কিছুই নয়। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর যাবৎ এই যুদ্ধ চলছে। তবে প্রতিবারই শেরপুর এর সীমান্তবর্তী এলাকায় হাতির আক্রমণে কোটি কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু ২০ বছর যাবত এই হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব এটাকে কেউ থামাতে পারছে না। প্রতিবছরই কৃষকদের ধান কাটার সময় আক্রমণ করে বন্য হাতি। এই যেনো পাকা ধানে মই দিতে চলে আসে।

বন্য হাতিদের লোকালয়ে আসার কারন:

ভারতের ভূমি যখন সমতল হয়ে যায় তখন সীমান্ত দিয়ে এসকল বন্য হাতি লোকালয়ে এসে জড়ো হয় খাবারের খোঁজে। এবং সমস্ত ফসলের জমি ধান শাকসবজি সহ বড় বড় বৃক্ষ উজার করে দিয়ে যায়। এবং প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকার ফসল, বৃক্ষ, ঘরবাড়ি ভেঙেচুরে দিয়ে যায় হাতির দল।

হাতির আক্রমণে ক্ষয়ক্ষতি :

এলাকাবাসীদের মতে গত ২০ বছর যাবৎ হাতির আক্রমণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এবং আহত হয়েছে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। এলাকাবাসীরা আরো বলেন, প্রতিবছরই হাতিরা সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিন থাকে তারপর তারা আবার চলে যায়। কিন্তু এই বছর ১৫ দিনের বেশি সময় পার হয়ে গেছে কিন্তু হাতিরা এখনো পর্যন্ত লোকালয় থেকে ফিরে যায়নি। এই হাতিদের আক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে তেমন কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে জানান শেরপুর এলাকাবাসী।

আরো পড়ুন....

নিজের স্ত্রীকে মেরে রান্না ঘরে পুতে দেয় স্বামী?

দেয়াল ধসে মৃত্যু হলো এক স্কুল শিক্ষার্থীর?

প্রতিদিন রাতে ফ্রিতে অসহায় দরিদ্র মানুষদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করেন বেন্টু?

 

হাতিদের আক্রমণ ঠেকানোর পদক্ষেপ:

হাতিদের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য এলাকাবাসী রাতের বেলায় পাহারা বাসায়। বিভিন্ন মশাল টর্চলাইট, আগুন ধরিয়ে হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে এলাকাবাসী। শুধু নিজেদের বাঁচানোর জন্য নয় বাঁচানোর চেষ্টা করেন তাদের ফসলের জমি ও। তবে কিছু কিছু সময় হাতি আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে পরে এবং এলাকাবাসীদের উপর আক্রমণ শুরু করে। এলাকাবাসীরা আরো বলেন, সারা বছর আমরা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে খুব কষ্ট করে চাষাবাদ করি। অনেক কষ্টের পর যখন আমাদের ফসল হতে শুরু করে যখন আমাদের ধান পাকে যখন ধানগুলো কাটার সময় হয় ঠিক সে সময়টাতে আমাদের ফসলের জমিতে আক্রমণ করে হাতিরাহাতির আক্রমনে আমরা খুবই হতাশ। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করছি আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের জমি বাঁচানোর জন্য। আমরা বুঝতে পেরেছি হাতিরা অতিরিক্ত আলো দেখলে কিংবা আগুন দেখলে সেখান থেকে চলে যায়। তাই আমরা সারারাত জেগে থেকে হাতিদের রাস্তায় আগুন ধরিয়ে পাহারা দেই যাতে তারা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। অনেক সময় মশাল, টর্চ লাইট এগুলো দেখে হাতিরা চলে যায় আবার অনেক সময় তারা ক্ষেপে যায় এবং সামনের দিকে তেড়ে আসে।

এখনো পর্যন্ত কতৃপক্ষের পদক্ষেপ:

এই বিষয়ে শেরপুর ইউনিয়নের উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে জানান, হাতির আক্রমণ ঠেকানোর জন্য গ্রামবাসীদের কে বিভিন্ন পদক্ষেপ তারা বলে দিয়েছেন। তাছাড়া আগুন ধরানোর জন্য কেরোসিন, মশাল, টর্চ সহ বিভিন্ন সামগ্রী কর্তৃপক্ষ থেকে এলাকাবাসীদের দেওয়া হয়েছে। এবং কারেন্টের তারের মাধ্যমেও হাতিদের কে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাছাড়া হাতিদের কে কিভাবে আটকানো যায় এবং হাতিদের আক্রমণ থেকে নিজেদেরকে কিভাবে বাঁচানো যায় সে বিষয়ে এলাকাবাসীদের কে যথেষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউনিয়নের উপজেলা চেয়ারম্যান। হাতির আক্রমণের ফলে এলাকাবাসীদের প্রতিবছরই অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। কারণ এবছর হাতিরা অনেকদিন যাবত লোকালয়ে রয়েছে তারা তাদের বনে ফিরে যায়নি। এখনো পর্যন্ত তারা মাঝে মধ্যে লোকালয়ে এসে আক্রমণ করে। তবে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের লিস্ট করা হচ্ছে খুব দ্রুত সরকারিভাবে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে জানান ইউনিয়নের নির্বাহী কর্মকর্তা।

Previous Post Next Post

Contact Form